Ittefaq সম্পাদকীয়
ইহা তো দুধ নহে, বিষ
০০:০০, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
বলিবার অপেক্ষা রাখে না যে, গরুর দুধ ও প্যাকেটজাত দুধে সিসা ও ক্রোমিয়াম মিলিবার সংবাদটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এইসকল দ্রব্য মানবদেহে প্রবেশের চূড়ান্ত পরিণতি ক্যান্সার। কিডনির কাজ হইল শরীরের নানা দ্রব্য ছাঁকিয়া ফেলিয়া দেওয়া, কিন্তু কিডনি এইসকল দ্রব্য ছাঁকিতে পারে না। ফলে, এইগুলি দেহে জমা হইতে থাকে, যাহার পরিণতি হয় মারাত্মক। মনে রাখিতে হইবে, আগুনের আঁচে দুধ ফুটাইলে কিছু কিছু অণুজীব নষ্ট হইতে পারে, কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক বা সিসা নষ্ট হয় না। দুধসহ খাদ্যে ভেজাল মিশানো মারাত্মক দুর্নীতি বলিয়া গত সোমবার মন্তব্য করিয়াছেন হাইকোর্ট। এই দুর্নীতির ব্যাপারে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা লইতে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে নির্দেশও দিয়াছেন আদালত। আমরা আশা করিব, জনস্বার্থে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করিয়া অনতিবিলম্বে ইহার শিকড় খুঁজিয়া বাহির করা হইবে। পাশাপাশি, অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রেও ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) হালনাগাদ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভবিষ্যত্
০০:০০, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের (ইউপি) নির্বাচনের পরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ভবিষ্যত্ কেমন হইবে তাহা লইয়া ইউরোপপন্থিদের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি হইয়াছে। দ্য ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফরেন রিলেশনস (ইসিএফআর) নামক প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের সদ্য-প্রকাশিত একটি গবেষণায় এইবারের ইউপি নির্বাচনে ইউরোপপন্থি দলগুলির খারাপ ফলের আভাস দেওয়া হইয়াছে। ইহার বিপরীতে, সমন্বিত-ইউরোপের ধারণার বিরোধিতাকারী উগ্র জাতীয়বাদী দলগুলি এইবার ইউপি’র এক-তৃতীয়াংশের মতো আসন দখল করিয়া ফেলিতে পারে বলিয়া জানানো হইয়াছে। ইসিএফআর-এর ধারণা সত্য প্রমাণিত হইলে, বিশেষ করিয়া, মুক্ত-বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতিমালার ক্ষেত্রে গত কয়েক দশক ধরিয়া গড়িয়া ওঠা আন্তঃইউরোপীয় ঐকমত্য নষ্ট হইবার উপক্রম হইবে। এই শক্তিটি ইউপি’র ভিতর হইতেই সর্বশক্তি নিয়োগ করিয়া ক্রমশ ইইউকে নিস্তেজ করিয়া ফেলিতে চাহিবে।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধপরবর্তীকালে মহাদেশীয় বন্ধনের প্রতিভূ এই সংগঠনটি কেন ঝুঁকির মধ্যে পড়িয়া যাইতেছে? বস্তুত ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলির মধ্যে প্রভাবশালী দলগুলির ভিতর-বাহিরের দ্বন্দ্ব ইউরোপ-বিরোধীদের কাজ অনেকটাই সহজ করিয়া দিয়াছে। এইক্ষেত্রে জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশের কথা উল্লেখ করা যাইতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করিয়া ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে কমপক্ষে তিনটি ভিন্ন ধারা বিরাজ করিতেছে। পক্ষান্তরে, ব্রেক্সিট লইয়া করণীয় প্রসঙ্গে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরোমি করবিনের সহিত দলীয় এমপিদের বৃহত্ অংশের মতভেদ নিয়মিতই প্রকাশ্য হইতেছে। আবার কনজারভেটিভ ও লেবার পাটির্র মধ্যে ব্রেক্সিট লইয়া বিভেদ তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের উগ্র-জাতীয়তাবাদী ব্রেক্সিটপন্থিরা কিংবা ইউকে ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টির মধ্যে উগ্র-ব্রেক্সিটপন্থি দল ক্রমশ রাজনীতিতে আসন গাড়িয়াছে। এমনকি ব্রেক্সিট পার্টির মতো নবগঠিত দলও এই মুহূর্তে শক্তি সঞ্চয় করিয়া চলিয়াছে। জার্মানিতে ক্ষমতায় আসীন শরিক দুই দল অর্থাত্ ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রাটিক ইউনিয়ন ও ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের মধ্যে অভিবাসী-শরণার্থী নীতি বিষয়ে মতানৈক্যের সুযোগে অল্টারনেটিভ ফর ডয়েসল্যান্ডের মতো ইইউ-বিরোধী কড়া জাতীয়তাবাদী দল আসন গাড়িয়া বসিয়াছে। ইতালি কিংবা হাঙ্গেরির মতো দেশে ইইউ-বিরোধী নেতারাই ক্ষমতায় আসীন হইয়াছেন। দুর্বল ইইউ কিংবা ইইউ-এর অবসানের ঝুঁকি সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকিবার কারণেও ইউরোপ-বিরোধীরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করিতে পারিতেছে। এমতাবস্থায় আগামী মে মাসের ইউপি নির্বাচন গোটা মহাদেশ তথা বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হইয়া উঠিবে বলিয়া মনে হইতেছে।
0 comments:
Post a Comment